বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী টাংগন ব্যারেজের গেট উত্তলন। Logo কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লেবুখালী ফেরিঘাট কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী শতাধিক ফেরিওয়ালা ও টং দোকানদার ব্যবসায়ীরা। Logo বরিশাল বানারীপাড়া থানায় পিতা ও পুত্রের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ। Logo রুহিয়া ইউপি নির্বাচনে আবারও মনিরুল হক বাবুকে নৌকার কান্ডারী দেখতে চায় ইউনিয়নবাসী । Logo বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম বেপারীর সংবাদ সম্মেলন। Logo বরিশাল নৌ-বন্দরে সুমনের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। Logo সময় টিভির পরিচয় দানকারী,বাকেরগন্জেে’র প্রতারক বিশ্বজিৎ কর্মকার আটক। Logo অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী তানিন সুবাহ। Logo চুরির অপবাদ দিয়ে কৃষকের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ। Logo আজ মধ্যরাত থেকে সমুদ্রে মাছ ধরবে জেলেরা।

আগামীকাল থেকে ২ সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ৩৫ বার পঠিত
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১, ১০:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঈদের ছুটি শেষে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকেই দেশজুড়ে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন শুরু হচ্ছে। মানুষের অবাধ চলাফেরায় এবারের বিধিনিষেধ ‘সবচেয়ে কঠোর’ হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকবে এই কঠোর অবস্থা। এ বিষয়ে ১৩ তারিখ মন্ত্রিপরিষদের প্রজ্ঞাপনেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

শিথিল অবস্থার মেয়াদ পিছিয়ে ২৭ জুলাই থেকে আবার লকডাউন দেওয়ার যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু অফিস-আদালত এবং গার্মেন্টস কারখানা, রপ্তানিমুখী- সবকিছু বন্ধ থাকবে, তাই এটা এ পর্যন্ত যতগুলো লকডাউন হয়েছে তার মধ্যে সর্বাত্মক কঠোর হবে।

‘যেহেতু মানুষের বাইরে আসার প্রয়োজন হবে না, মানুষের অফিসে যেতে হবে না, গার্মেন্টস কারখানায় যেতে হবে না, ফলে এবারেরটা গতবারের চেয়ে বেশি কঠোর হবে। এটি বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাসদস্যরা থাকবেন।’

গত ১ জুলাই থেকে টানা দুই সপ্তাহ লকডাউনের পর কোরবানি ঈদ ও পশুর হাট আর ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা বিবেচনায় ১৫ জুলাই থেকে তা শিথিল করে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে তখনই জানিয়ে দেয়া হয়, ২৩ তারিখ ভোর থেকে আবার ১৪ দিনের শাটডাউন দেওয়া হবে।

ফলে যারা বাড়ি গিয়ে ঈদ আনন্দ উদযাপন করছেন তাদের কর্মস্থল বা নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে আসতে হবে শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গিয়েছেন, তারা জানেন যে তাদের কর্মক্ষেত্র বন্ধ থাকবে। তারা সময় নিয়ে গেছেন। তারা যেন ৫ তারিখের (আগস্টের) পরই আসেন। কারণ তাদের এখন আসার প্রয়োজন নেই।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের সব মানুষের সহযোগিতা চাইলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ কমাতে অবশ্যই সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। ঘরে থাকবে হবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে আসবেন না। বাইরে আসতে হলে অবশ্যই ডাবল মাস্ক পরবেন।’

সবার সহযোগিতা পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘এটা যদি সবাই মিলে করতে পারি, তাহলে সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারব। না হলে এটা বাড়তে থাকবে। হাসপাতালে রোগীর যে চাপ আছে, সেটা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই এই ১৪ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

লকডাউনে কারখানা খোলা রাখতে পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়ার পাশাপাশি দেখা করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গেও। তবে তাদের কোনো সুপারিশও আমলে নেয়নি সরকার।

বিষয়টি নিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে পরিস্থিতি যদি ভালো হয়, তাহলে অবস্থা বুঝে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ মাসে কিছু হচ্ছে না।’

১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লকডাউন শুরু হওয়ামাত্রই বন্ধ থাকবে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস। বন্ধ থাকবে অভ্যন্তরীণ বিমানসহ সড়ক, রেল ও নৌপথে সব গণপরিবহন ও সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন। কোনো অবস্থাতেই খোলা যাবে না শপিং মল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট। বন্ধ থাকবে পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্রের মতো সব ধরনের জনসমাগম কেন্দ্র। ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারের মতো অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবে কেউই বাড়ির বাইরে আসতে পারবে না।

নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে সরকার। এ জন্য মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বসানো হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। টহল নিশ্চিত করে লকডাউনে বাস্তবায়নে ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মাঠে নামানো হবে সেনাবাহিনীকে। এ ছাড়া মাঠে থাকবে বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও আনসার।

তবে যারা করোনা প্রতিরোধী টিকা নেবেন তাদের টিকা কার্ড দেখিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে যেতে কোনো বাধা থাকবে না। আর খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। তাই বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের টিকিট দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের সুযোগ রেখেছে সরকার। তবে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিকের মতো সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করা যাবে না এই সময়ের মধ্যে।

বরাবরের মতো জরুরি সেবাকে বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। জরুরি সেবার মধ্যে যারা আছেন, তাদেরও চিহ্নিত করেছে সরকার।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD