মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

নলছিটির রায়াপুরে ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ১৩ বার পঠিত
আপডেট সময় : বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নলছিটি উপজেলার রায়াপুর গ্ৰামের শেষপ্রান্তে কালিজিরা নদীর তীরে এমএমবি নামের একটি ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে গাছ। নিরবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ জন্য আইন ভেঙে ভাটার ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে করাতকল। সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কৃষিজমির মাঠে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়। এ ভাটায় প্রতিবছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট তৈরি করা হয়। এখানে প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিবছর আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ইট উৎপাদন করা হয়। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,, এমএমবি নামের একটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার বিভিন্ন স্থানে পোড়ানোর জন্য কাঠ গাছ মজুত করা হয়েছে।নদীর পাশে হওয়ায় আশপাশে জেগেওঠা চর থেকে মাটি কেটে বিশাল মজুদ করা হয়েছে। ভাটাটিতে কোথাও কয়লা চোখে পড়েনি। কেবল গাছপালা ও বাঁশের মোথা দিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে এখানে।

আর শ্রমিকেরা ট্রলিতে ভরে কাঠ এনে ইট পোড়ানোর স্থানে স্তূপ করে রাখছেন। কাঠ চেরাইয়ের জন্য ইটভাটার ভেতরে করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করায় ইট পোড়ানোর মৌসুমে প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়। এতে আশপাশের জমিতে ধানের আবাদ ও এলাকার ফলদ গাছপালার উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

ঐ এলাকার বাসিন্দা, তাঁরা সারা বছর মাঠের ফসলের আবাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাঁদের গ্রামের এই ফসলি জমিতে ইটভাটাটি স্থাপনের পর থেকে তাঁদের ফসল উৎপাদন কমে গেছে। ফলন গাছেও ফল কম ধরে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী বিনা লাইসেন্সে কেউ ইট তৈরি করতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে তিনি অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯-এর তথ্য থেকে জানা যায়, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। কাঠ পোড়ানো যাবে না। কিন্তু এর কিছুই মানছেন না এমএমবি নামের ইটভাটার মালিক বাকের মৃধা। স্থানীয়রা জানান।

নিয়মনীতি অমান্য করে রাত-দিন সেখানে পুড়ছে ইট, উড়ছে ধোঁয়া আর গ্রামের প্রতিটি কাঁচা-পাকা সড়কে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইটবাহী ট্রাক্টর গাড়ির ভয়ংকর শব্দ। ইটভাটার ধূলোবালি ও গাড়ির অত্যাচারে গ্রামবাসী অসহায়। জানাগেছে, ইটের ভাটা দিতে হলে পরিবেশ বিভাগের ছাড়পত্র, কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, বিএসটিআই ইত্যাদি যাবতীয় অনুমোদন নিয়ে হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে ইটভাটার মালিক বাকের মৃধার ভাল সম্পর্ক আছে বিধায়। তারে কেউ কিছুই করতে পারবে না। অপর একটি সূত্র জানায়, অবৈধ ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন ভেঙে না দেয় সে জন্য বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তা-বাবুদের টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে রেখেছেন। ভাটা মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারী আইন মানছেন না তিনি। যেভাবে কাঠের কালো ধোঁয়া হচ্ছে, তাতে স্বাস্থ্যহানি এবং পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা কাঠ পোড়ানো বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যেন। ভাটার বর্তমান মালিক বাকের মৃধা মুঠোফোনে জানান, আইনানুযায়ী সঠিকভাবে ইটভাটা পরিচালনা করা যায়না। আপনি তো কিভাবে ভাটা চালাই। আপনার নিউজ করার দরকার নেই। অন্য সবার মত আপনারও কালিজিরা বাজারে চা খাওয়ার দাওয়াত রইলো। এব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন।

রাষ্টের আইন অমান্য কেউ ইটভাটা পরিচালনা করতে পারবেন না, যতদ্রুত সম্ভব খোঁজ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আঃ হালিম বলেন, সরকারী আইন অমান্য করে কেউ ইটভাটা চালাতে পারবেনা। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD