1. admin@dailyalokitoprovat.com : admin :
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০২:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পিআইও বিজন খরাতির বিরুদ্ধে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। কেশবপুরে কসাইয়ের ছুরিকাঘাতে পত্রিকা হকার গুরুতর আহত। কাহালুু উপজেলা মুরইল ইউনিয়ন তাঁতীলীগের এি- বাষিক সন্মেলন অনুষ্টিত। যশোরের কেশবপুরে উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিজলায় পিতৃপরিচয়ের ভয়ে গর্ভের সন্তানকে হত্যা। বরগুনা’য় মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে এলাকা বাসী ও ভূক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোসের প্রয়ানে শোক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি কেতানিজ ব্রাউন জ্যাকসন শপথ গ্রহণ। ভারতে ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৮১, নিখোঁজ অনেকে জুনে ধর্ষণের শিকার ৭৬

বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায়ই আমি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলাম

দৈনিক আলোকিত প্রভাত
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ২৫৩ বার পঠিত

জাহিদ ফারুক, এমপি :: ছাত্রজীবন থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পূর্ব বাংলার দুঃখী মানুষের স্বাধিকার দাবি আদায়ের বলিষ্ঠ বক্তা হিসেবে জেনেছি। পরে যখন ছাত্র রাজনীতি করি, তখন বেশ কয়েকবার তার সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন, তার স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। মূলত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি ১৯৬৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। সে সময় ছয় দফার এবং ’৬৯ সালের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ছয় দফার আন্দোলনের সময় আইয়ুব খানের ছবি ভাঙতে গিয়ে আমি আমার মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হই। ’৬৯ এর আন্দোলনের পর বর্তমানে সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এবং কয়েকজন বন্ধুসহ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় যাই এবং দুপুর ১২টার দিকে আমরা বঙ্গবন্ধুর বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলাম, তখন দেখি বঙ্গবন্ধু নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বাসায় ফিরছেন। তিনি বাসার সামনে এসে গাড়ি থেকে নামলেন। বাসায় ঢোকার পর আমরাও গেট অতিক্রম করে বাসায় ঢুকলাম। আমাদের দেখে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বরিশালের নওজোয়ান, কি খবর তোমাদের?’ এভাবে কিছু সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের কুশলবিনিময় হয়। তারপর মনি ভাইকে ডেকে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বরিশালের নওজোয়ানদের রাতে শাহবাগের ডিনার পার্টিতে দাওয়াত দাও। পশ্চিম পাকিস্তানের ‘পীর অব পাগারোর’ সম্মানে সেখানে একটি ডিনার পার্টি ছিল। বঙ্গবন্ধুর ওই ডিনার পার্টির দাওয়াত পেয়ে সেদিনই প্রথম আমার শাহবাগ হোটেলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

একবার বঙ্গবন্ধু বরিশালে যাচ্ছিলেন। আমরাও ঢাকা থেকে স্টিমারে উঠি। চাঁদপুরে যখন স্টিমার থামল, তখন তদানীন্তন আওয়ামী লীগের নেতা মিজান চৌধুরী স্টিমারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তার কিছুদিন পর বরিশাল গিয়েছিলেন সংগঠনের কাজে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ একটি নতুন বাড়ি বানিয়েছিলেন। তার খুব ইচ্ছা ছিল, বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে সেই বাড়িটির উদ্বোধন করাবেন। বঙ্গবন্ধু যখন বরিশাল যান, তখন তিনি সেই বাড়িটির উদ্বোধন করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু একটি ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমরা যারা পড়াশোনায় ভালো, যারা নওজোয়ান, তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান কর। কারণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আমাদের বাঙালি অফিসারের সংখ্যা খুবই কম।’ তার সেই কথায় উদ্বুদ্ধ হয়েই আমি সেনাবাহিনীতে যোগদান করি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে যাওয়ার আগে আমি আমার ফুফাতো বোন তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার স্ত্রী, তাকে নিয়েই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বঙ্গবন্ধুকে সালাম করে বললাম, নেতা আপনি বলেছিলেন, আর্মিতে যোগদান করতে, সেই কথাতেই আমি উৎসাহিত হয়ে অফিসার পদে মনোনীত হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান যাচ্ছি ট্রেনিং নিতে এবং আমার সঙ্গে আরও তিন বাঙালি যাচ্ছেন। এ কথা শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করে দিলেন এবং বললেন, আমি খুব খুশি হয়েছি এবং ভালোভাবে ট্রেনিং কর।

আমরা যখন ট্রেনিং অবস্থায় ছিলাম, তখন আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে ট্রানজিস্টারে বাংলাদেশের খবর শুনতাম। পাকিস্তানিদের ভয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও আমরা পুরোপুরি শুনতে পারিনি। একসঙ্গে বেশি বাঙালি অফিসারকে দেখলে তারা অন্যভাবে দেখত, সন্দেহ করত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ভয়ে ভয়ে যতটুকু পেরেছি শুনেছি। ওই ভাষণে আমরা চার বন্ধু খুবই উজ্জীবিত হই। আমাদের আশা জাগে যে, এবার কিছু একটা হবে। কারণ ছয় দফা আন্দোলন সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল, কেন ছয় দফা দাবি বঙ্গবন্ধু উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। সব আর্মি পশ্চিম পাকিস্তানেই ছিল।

বঙ্গবন্ধু সব সময় একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। যেহেতু আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল নিয়ম অনুযায়ীই আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের কথা থাকলেও পশ্চিম পাকিস্তানের মেজরিটি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনায় জেনারেল ইয়াইয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানিদের মনোভাব আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই ৭ মার্চের ভাষণে পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সংকটকালে বীর বাঙালিদের কী ভূমিকা পালন করতে হবে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন আমরা মাত্র কমিশন্ড অফিসার হয়েছি। সে সময় আমাকে ‘ফরওয়ার্ড এয়ারকন্ট্রোল শুটিং (এফএসি)’ ট্রেনিং করতে পাঠানো হয়েছিল লাহোরে। ওই ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে আমার দুই পা ভেঙে যায়। আমি প্রায় তিন মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম এবং সেখান থেকেই সরাসরি আমাকে কনসেনট্রেসন (ঈড়হপবহঃৎধঃরড়হ ঈধসঢ়) ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। দীর্ঘ দুই বছর জেলে আটক থাকার পর ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে আমি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা সিএমএইচ-এ ভর্তি ছিলাম। সিএমএইচে ভর্তি থাকাকালীন লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল একদিন আমাকে দেখতে আসেন। কারণ শেখ জামাল এবং আমি আমরা দুজনেই একই ব্যাটালিয়ন যথা দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলে (জুনিয়র টাইগার) চাকরিরত ছিলাম। এখনও আমার মাঝে মাঝে মনে হয় শেখ জামাল যদি সে সময় বাসায় না থেকে অফিসার্স মেসে থাকতেন, তাহলে হয়তোবা তিনি ১৫ আগস্টেও কাল রাতে নিহত হতেন না। কারণ ঘাতকরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাসায় গিয়েছিল। ওই ঘটনার আরও দুই দিন পর আমি ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বাস করেছিলাম।

বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পথ অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তেই তিনি নিজেকে সপে দিয়েছিলেন। ১০ বছর আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতি কোথায় ছিল, আর আজ আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছি। করোনা মহামারিতে বৈষয়িক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী আছে এবং করোনা মহামারি না থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও অনেক এগিয়ে যেত। এতকিছুর পরও প্রতি একনেক মিটিংয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস হচ্ছে এবং একইসঙ্গে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষকে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ১০ লাখ ভূমিহীন মানুষের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে এটা আমরা অতীতে কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি। এসব কিছুই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা পূরণ হবে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে চলে এসেছি, ২০৩১ সালে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা সমৃদ্ধিশালী দেশে পৌঁছাব এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পৌঁছতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় আমি যেভাবে আর্মিতে গিয়েছিলাম, ঠিক সেই একইভাবে বর্তমান সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে দেশের নদীভাঙনকবলিত নিঃস্ব মানুষের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে দেশের মানুষের জন্য সারাজীবন কাজ করে যাব এটাই আমার জীবনের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর-৫ আসনের এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা