সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের লেবুখালীতে নির্মিত পায়রা সেতু পরিদর্শণ। Logo বাংলাদেশের কোন জলাশয় অব্যবহৃত থাকবেনা, কলাপাড়ায় মৎস্যমন্ত্রী। Logo কলাপাড়ায় বড় মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে : আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন। Logo বরগুনায় আত্মপ্রকাশ হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার বরগুনা জেলা কমিটি। Logo মাদক বিক্রির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় যুবকে মারধোর। Logo সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। Logo ঝালকাঠিতে সত্তরার্ধ স্বামীহারা বৃদ্ধাকে ইউএনও’র খাদ্য, বস্ত্র সহায়তা। Logo বরিশালের হিজলায় জন্ম নিবন্ধনে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ । Logo বাকেরগঞ্জে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে অপরাজিতাদের মতবিনিময় সভা। Logo তালতলীতে সাংবাদিকের উপরে হামলা,থানায় মামলা।

বরিশাল ভাড়া বাসাতেই চলছে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম; তীব্র সংকটে আবাসন ব্যবস্থা

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১, ৫:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক >> নির্মানাধীন বিএমপি কার্যালয় ভাড়া বাসাতেই চলছে বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম। বর্তমানে নগর পুলিশের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বেশির ভাগই অফিরে কার্যক্রম গুলো ভাড়া বাসায় হলেও দীর্ঘ বছরেও এর সমাধানে আলোর মুখ দেখতে পায়নী নগর পুলিশ।

তথ্য বলছে ২০০৬ সালে বরিশাল মেট্টোপলিটন হিসেবে ঘোষনা হলেও পুলিশী সেবা সাধারন মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষে ২০০৯ সালে কোতয়ালী মডেল থানা ভেঙ্গে নগরীতে ৪ টি থানায় রুপান্তিরিত করা হয়েছে।এগুলো হলো, কাউনিয়া থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও বন্দর থানা। একই সাথে নগর গোয়েন্দা পুলিশেরও করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ভাগ।

বিশেষ শাখা, পিএমও থেকে শুরু করে নগর পুলিশের প্রায় সব কটি বিভাগই শুরু করা হলেও পর্যাপ্ত পরিমানে নেই অবকাঠামো এবং জনবল।

বিশেষ করে নগর পুলিশের থাকার জন্য নগর কমিশনারের বাসাসহ নেই সাধারন অফিসাসদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা। ফলে পুলিশ কমিশনারসহ অধিকাংশ কর্মকর্তাদেরর থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাসায়। অর্থাৎ শুধু মাত্র কোতয়ালী মডেল থানা ব্যতিত পুলিশের সকল ইউনিটই রয়েছে ভাড়া বাসায় অফিস হিসেবে।

বিশেষ করে মেট্টোপুলিশ লাইন্সও রয়েছে জেলা পুলিশ লাইন্সের একাশেং। তবে এর মধ্যে নগরীর বেশি ভাগ থানা এবং কর্মকর্তাদের অফিসের জন্য জমি ক্রয় করে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অর্থের চাহিদার জন্য এখনো গড়ে তোলা হয়নী ভবনগুলো।

এ বিষয় সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্ট্রেটেস) মো. শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, নগর পুলিশের কমিশনার কার্যালয়ের নির্মান কাজ চলছে। ওই জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে ৬ তলা পর্যন্ত করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০০৬ সাথে নগরীর কার্যক্রম শুরু করার পর বর্তমানে এই অফিসটি নগরীর আমতলা মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় থেকে কার্যক্রম পরিচালিত করা হচ্ছে।

তথ্য বলছে,
উপ- কমিশনার (দক্ষিণ)ঃ এই অফিসটি বর্তমানে আলেকান্দা পলিটেকনিক কলেজ গলীর একটি ভাড়া বাসায় থাকছে। এখানে রয়েছে বন্দর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনারের ও অফিস। এ ভবনেই মেট্টো ডিবির অফিস থাকলেও স্থান সংকুলন না হবার কারনে তারা বর্তমানে ১ নম্বর সিএন্ডবি পোল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

উপ-কমিশনার (উত্তর) ঃ এই অফিসটি প্রথমে দক্ষিনের ভবনে থাকলেও বর্তমানে এটি নথুল্লাবাদ লুৎফর রহমান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় নেয়া হয়েছে। সেখানে কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও বিমানবন্দরের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে হিসেবেও ব্যবহারিত হচ্ছে।

নগর গোয়েন্দা বিভাগ ঃ এই বিভাগটি আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি দক্ষিন অপরটি উত্তর। ফলে একজন উপ কমিশনার হলেও রয়েছে ২ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার ও একজন এডিসি। এদের সবার অফিসই ওই ভবনে। এই ভবনের কার্যক্রম ১ নম্বর সিএন্ডবি পোল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সরকারি হিসেবে যেভাবে অফিস রুম বরাদ্ধ থাকার কথা তার অনেকাংশে উন্নয়নের ছোয়া লক্ষনীয় নয়।

ট্রাফিক বিভাগ ঃ ট্রাফিক বিভাগ এই বিভাগের কার্যক্রম প্রথম থেকেই নগরীর কালীবাড়ী রোডস্থ শীতলা খোলার মোড়ে অবস্থিত একটি ৩ তলা বিশিষ্ট ভাড়া বাড়িতে বসেই পরিচালিত করা হয়। এখানেই অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি), সহকারি কমিশনার (এসি), ইন্সপেক্টর ও ট্রাফিক সার্জেন্টদের অফিস। যদিও কাগজে কলমে সকল কর্মকর্তাদের অফিস থাকলেও কক্ষ সংকটের কারনে ইন্সেপেক্টরদের জন্যও নেই কোন নির্দিষ্ট কক্ষ।

ফলে সড়কে বসেই চলে তাদেও দৈনন্দিন অফিসের ছোটখাটো কাজ। তবে উপ-কমিশনারের কার্যক্রম এই ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ট্রাফিক মামলা গুলো সমাধানের জন্য এখানেই ভাঙ্গানো হয়।
বিশেষ শাখা, অপরাধ বিভাগ, অতিরিক্ত কমিশনারদের জন সহ অনান্য অফিসাসদের জন্য কমিশনারের কার্যালয়ই ব্যবহারিত হচ্ছে।

পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম)ঃ এই শাখাটি রয়েছে নগরীর কাশিপুর ফিসারী রোডের স্থানীয় আলী আহমেদের ভাড়ার বাসায়। এই শাখাটিতে যে ইন্সেপেক্টর, এসিসহ অনান্য কর্মকর্তারা রয়েছে তারাও ছোট ছোট কক্ষে কোন রকম ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

কাউনিয়া থানাঃ এই থানার কার্যক্রম প্রথমে কোতয়ালী মডেল থানার একটি ফাড়িতে শুরু হলেও পরবর্তীতে তাদের চাহিদার জন্য কাউনিয়া থানা স্থান্তর করা হয় নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের টেস্কটাইল সড়কের ২ তলা বিশিষ্ট একটি ভাড়া বাসায়। সেখানেও বছর খানেক থানা পরিচালনা করে বর্তমানে কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় একটি ৩ তলা বিশিষ্ট ভাড়া বাসায় থেকে থানার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এই থানা টি নগরীর ৫ টি ওয়ার্ড ও ২ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে নগরীর ১ থেকে ৫ নং ওয়ার্ড এবং ৭ নং ওয়ার্ড আর চরবাড়িয়া ও সায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন রয়েছে।

এয়ারপোর্ট থানাঃ এ থানাটি হাইওয়ে এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কপাল খুলে নিজেদের জমিতে আধুনিক ভবনে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও থানাটি পূর্বে কাশিপুর চৌরাস্তা চহঠা সড়কের ৩ তলা বিশিষ্ট একটি ভাড়া বাসায় থেকে তাদের সেবা কার্যক্রম চালাতো।

বন্দর থানাঃ এই থানাটি সদর উপজেলা সাহেবের হাট এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডেও একটি পরিত্যাক্ত ভবনে থেকে তাদের থানার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ইতো মধ্যে অনুদানসহ প্রায় ১১০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৪২১টি থানার ভবনের সাথে এই থানাটিরও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে পুলিশ কমিশনারের স্ট্রেটস শাখা থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্য মতে, উপ কমিশনার দক্ষিণ, উত্তর, ট্রাফিক ও গোয়েন্দা বিভাগের জন্য জমিসহ মোট ৪ টি ভবন নির্মানের জন্য ২০১৭ সালের ৭ জুলাই বরিশাল মেট্টোপলিটন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিলো।

সেই প্রস্তাবটি ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারী ভুমি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলে ভূমিমন্ত্রী ৪ টি স্থান এবং ভবনের পরিবর্তে ২ টি ভবনের জন্য সুপারিশ করে প্রস্তাব করে বিষয়টি নগর পুলিশকে মতামতের জন্য প্রেরণ করা হলে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ টি স্থানে ৪টি ভবনের গুরুত্ব জানিয়ে ওই বছরেরই ২৮ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

সেখান থেকে একনেকের অনুমতির জন্য স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ১৬ অক্টোবর ২০১৯ এ একনেকে প্রেরণ করে। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১৭ই নভেম্বরও ভুমি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নগর পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়।

এদিকে বর্তমানে বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশে অফির্সাস সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নেই পর্যাপ্ত পরিমানে আবাসন ব্যবস্থা।

বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারগন কমিশনার অফিসের বিভিন্ন কক্ষে থেকেই সরকারি কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার পদপর্যাদায় (ডিসি) হিসেবে নগরীতে কাজ করলেও আবাসিক ব্যবস্থার কোন দৃশ্যমান ভুমিকা লক্ষনীয় নয়। একই সাথে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার, সহকারি কমিশনারসহ বহু পদ রয়েছে যারা ভাড়া বাসাগুলোর ছোট ছোট রুম অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে।

একই সাথে পুলিশের বহু অফিসের শাখা রয়েছে যাদের নিদৃস্ট বড় কক্ষর প্রয়োজন হলেও কোন ভাবে গাদাগাদি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে আশার কথা কথা হলো বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার ভবনের নির্মানকাজ চলছে। কোন জটিলতা না থাকলে অফিসের কাজ সঠিকভাবে এগিয়ে চললে দ্রুতই বরিশালের বুকে একটি আধুনিক পুলিশ কমিশনার ভবন নির্মান শেষে কার্যক্রম চলবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD