সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের লেবুখালীতে নির্মিত পায়রা সেতু পরিদর্শণ। Logo বাংলাদেশের কোন জলাশয় অব্যবহৃত থাকবেনা, কলাপাড়ায় মৎস্যমন্ত্রী। Logo কলাপাড়ায় বড় মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে : আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন। Logo বরগুনায় আত্মপ্রকাশ হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার বরগুনা জেলা কমিটি। Logo মাদক বিক্রির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় যুবকে মারধোর। Logo সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। Logo ঝালকাঠিতে সত্তরার্ধ স্বামীহারা বৃদ্ধাকে ইউএনও’র খাদ্য, বস্ত্র সহায়তা। Logo বরিশালের হিজলায় জন্ম নিবন্ধনে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ । Logo বাকেরগঞ্জে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে অপরাজিতাদের মতবিনিময় সভা। Logo তালতলীতে সাংবাদিকের উপরে হামলা,থানায় মামলা।

বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি’র গডফাদার খ্যাত বিমল জেলহাজতে।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ১৬৩ বার পঠিত
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

দানিসুর রহমান লিমন,বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
বিমল চন্দ্র সাহা, শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে এসে শুরু করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। জমি দখল, সালিশ ব্যবসা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রতারণা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনাকে নিয়মিত কারবার বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কোনভাবেই যেনও থামানো যাচ্ছিল না তাকে। অতিস্ট হয়ে পড়েছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নবাসীও। সবাই ভেবেছিলেন তাকে থামানোর উপায় নেই। তবে অবশেষে থেমেছে তার দৌরাত্ম্য।

জমি দখলের অভিযোগে দুই বছর আদালতকে তোয়াক্কা না করার পর গতকাল জামিন নিতে গিয়ে শ্রীঘরে ঢুকতে হয়েছে তাকে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নিয়ামতী বাজারে বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি। বিমল চন্দ্র সাহা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ বারের সাধারণ সম্পাদক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহারের আগে তার কোন পরিচয় ছিলো না। বাড়িতে ছিলো একটি মাত্র ঘর। তবে দলে পদ পেয়ে দিন বদলে যায় তার। কোনদিন কোন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিও হতে পারেননি। তবে অনৈতিক উপায়ে হাতিয়েছেন বহু সম্পত্তি। এভাবে ভারতে করেছেন দুইটি বাড়ি। ছেলেকেও যুক্ত করেছেন মাদক ব্যবসায়। অবৈধ সম্পদ মেয়েকে দিয়ে পাচার করিয়েছেন আমেরিকায়।

স্থানীয়রা জানান, বিমলের মূল ব্যবসা ছিলো অহেতুক মামলায় এলাকার সব বয়সী ছেলেদের ফাঁসিয়ে দেয়া। পরে তাদের পরিবারকে ডেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ানো। গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব বাহিনী। তাদেরকে দিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে উঠতি নেতাদের হাতে রাখতেন বিমল। বিচারের নামে পক্ষপাতিত্ব ও মসজিদ-মন্দিরের অর্থ হাতানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর জেরে কয়েক বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন তাকে মেরে পা ভেঙ্গে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ বাংলার সিংহ পুরুষ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল আলম চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নাম ব্যবহার করে এসব প্রভাব বিস্তার করেন বিমল।

জানা যায়, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে নদীর চর দখল, সরকারি জমি দখল এসবই ছিল বিমলের নিয়মিত কাজ। সম্প্রতি নিয়ামতী বাজারে একটি জমি দখল করে ঘর ভেঙ্গে দেয় সে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও দুই বছর ধরে সে আদালতকে তোয়াক্কা করেনি। তবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার বরিশালের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলামুক্ত হতে গেলে ১৩ সঙ্গীসহ গ্রেফতার হন তিনি।

বিমলের সঙ্গে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মৃত আঃ হামিদ মৃধার ছেলে ইউপি মেম্বার আলমগীর মৃধা (৪৫) মৃত শাশ্বানাথ স্বাহার ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিমল স্বাহা (৬০) মৃত দেনছের খানের ছেলে মোঃ বাসার খান (৩৫) মৃত আঃ মন্নানের ছেলে মোঃ বিল্লাল মৃধা (৪০) মৃত আঃ হামিদ মৃধার ছেলে মোঃ বাবুল মৃধা (২৫) মৃত মোতাহার মৃধার ছেলে মোঃ মহারাজ মৃধা (৩৫) মৃত আনছার হাওলাদারের ছেলে মোঃ মন্টু হাওলাদার (৫০) মৃত খবির শিকদারের ছেলে খলিল শিকদার (৫০) মালেক শিকদারের ছেলে মোঃ মেহেদী শিকদার (৩৫) রঞ্জন স্বাহার ছেলে শ্যামল স্বাহা (৪২) মৃত গৌরাঙ্গের ছেলে বিমল ওরফে কালাচাঁন (৪৫) ইউনুস মৃধার ছেলে বাবুল মৃধা (৩২) মন্টু হাওলাদারের ছেলে হাসান হাওলাদার (২৮) রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে শুক্কুর (১৮) আইয়াল শিকদারের ছেলে হেলাল শিকদার (৪২)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD