মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউপি নির্বাচনে আশাহত মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে নৌকার প্রার্থী বাদশা।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ১১৪ বার পঠিত
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রিপোর্ট নজরুল ইসলাম খান আলীম।
নিয়ামতি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে ত্যাগ ও অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন এরকম প্রায় ডজন খানেক নেতাকে বঞ্চিত করে কার হাতে তুলে দিলো নৌকা নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে যার পরিচিতি নেই, নেই আওয়ামী লীগের সাথে সাংগঠনিক কোন সম্পর্ক সে আর কেউ নয় বাদশা নিজামী। হঠাৎ করে আলাদিনের চেরাগ হিসেবে নৌকার টিকিট হাতে নিয়ে নিয়ামতি ইউপি নির্বাচনে মাঠে নামলেও নেই তার সাথে ইউনিয়নের কোনো নেতাকর্মী সমর্থক। সাধারণ ভোটারদের সাথে যার পরিচয় নেই এমন ব্যক্তির হাতে নৌকার টিকিট তুলে দেয়ায় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মাঝেও দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগের উপর আস্থাহীনতা। কিছুদিন আগে নির্বাচন বর্ধিত সভায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তেমন কোনো সাড়া মেলেনি ইউনিয়নের নেতা কর্মীদের। বর্ধিত সভায় ইউনিয়নের নেতারা নানামুখী বক্তব্য রাখেন বাদশা নিজামীর বিরুদ্ধে।নিয়ামতি ইউনিয়নের নমিনেশন থেকে ছিটকে পড়া ত্যাগী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মানুষ ত্যাগ শ্রম ও তপস্যা করে থাকে সুন্দর একটি ফল প্রাপ্তির প্রত্যাশায়। আমাদেরকে বারবার ঠকানো হয়েছে এর পরে কি নমিনেশন পাব আমরা কবরে গিয়ে। তবে আমাদের ইউনিয়নের ত্যাগী নেতাদের কাউকে এইবার নমিনেশন দিলে অত্যন্ত খুশি হত ইউনিয়নের জনগণ ও নেতাকর্মীরা।বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নিয়ামতি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হাওলাদার অথচ সাবেক সাংসদ সৈয়দ মাসুদ রেজা সহ ইউনিয়নের সকল সিনিয়র ব্যাক্তি ও নেতৃবৃন্দদের অনুরোধে এবং মুরুব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন প্রত্যাহার করে মাসুম মাস্টারকে দলীয় সমর্থীত একক প্রার্থী করিয়া তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন তিনি। আরো জানা যায়, ২০১১ সালের নির্বাচনে পূর্ব ওয়াদা মত জয়নাল আবেদীন হাওলাদার কে একক প্রার্থী হইতে সহযোগিতা করেনি কেউ। ২০১৬ সালের নির্বাচনে উপজেলা ও জেলা নেতাদের কাছে এগিয়ে থাকলেও অজানা কারণেই মনোনয়ন পাননি তিনি। তারপরও কখনো হাল ছাড়িনি দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে ও জনগণের ভালো-মন্দে এবং সুখ দুঃখে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন এখন পর্যন্ত।সর্বশেষ হলেও ২০২১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন এমন প্রত্যাশা নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছিলেন তিনি।কিন্তু শেষ আসার ঘরেও প্রদীপ আর জ্বলেনি। অপরদিকে নৌকার টিকিট নিয়ে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান রুহুল আমিন মাসুম মাস্টার, তরুন ছাত্রনেতা সাবেক সফল চেয়ারম্যান কামাল তালুকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনির মুন্সি, আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব মৃধা সকলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বাসীর খুব কাছে থেকেই নির্বাচনী মাঠ সাজিয়ে রাখলেও সেই নির্বাচনী মাঠে নৌকার টিকিট নিয়ে ফেরেন আলোচনার বাইরে থাকা বাদশা নিজামী।জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা এমন ব্যক্তি নৌকার টিকিট নিয়ে আসায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে নৌকার দিক থেকে। অধিকাংশ ভোটাররা মনে করেন অযোগ্য এমন প্রার্থী হাতে নৌকা তুলে দিয়ে জয়ের আশা কোনভাবেই করা যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা জানান, বারবার ত্যাগী নেতাদের নমিনেশন বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পর্ক নেই এমন ব্যাক্তিকে নৌকার টিকিট দেয়ায় তারা গোপনে বিদ্রোহীদের সাথে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। আর এখন আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ আর এসব কারনেই নৌকার পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল তালুকদার, মনির মুন্সি, সোহরাব মৃধা, তাদের প্রদান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছে চরমোনাই মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী হুমায়ুন কবির। আওয়ামী লীগের কাদা ছোড়াছুড়ি তে অনেকটা টার্নিং পয়েন্টে জয়ের হাতছানি দিচ্ছে হাতপাখা মার্কার দিকে।ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাদশা নিজামী জনসমর্থন ও দলীয় নেতা কর্মিদের সমর্থন থেকে অনেকটা দূরে সরে রয়েছেন। আর এসব কারণেই নিয়ামতি ইউনিয়নে বাদশা নিজামীর হাতেই নৌকা ডুববে এমন ধারণা সর্বস্তরের ভোটারের।(চলবে)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD