বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo Logo বাকেরগঞ্জ পাদ্রীশিবপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার আসামি, তিন মাসেও গ্রেফতার হয়নি,থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। Logo হয়রানির শিকার যাত্রী সাধারণ । Logo মা ইলিশ অভিযানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সাফল্য, ২৩৪ কোটি টাকার জাল ও ২৫৭ জেলে আটক। Logo সৈয়দকাঠীতে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক মাস্টার আনারস প্রতীক পেয়েছেন Logo মনোনয়ন না পেলেই একে অপরকে রাজাকার বানাতে ব্যস্ত ঃ ওবায়দুল কাদের। Logo ঠাকুরগাঁওয়ের সেই তেলের ঘানি টানা দম্পতিকে গরু ও অর্থ উপহার দিলেন- জেলা প্রশাসক Logo বরিশাল লঞ্চঘাটে থ্রি হুইলার থেকে সুমনের চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo শিকলে বাঁধা মৌসুমি এখন স্বাভাবিক জীবনে। Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ নিয়ামতি ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বাবুল আকন।

বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার হচ্ছে অবাধে।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ২৯ বার পঠিত
আপডেট সময় : রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:৩০ অপরাহ্ণ

ডেক্স রিপোর্ট ঃ-
উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার হচ্ছে অবাধে। এতে মারা পড়ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আর পোনা। মৎস্য কর্মকর্তা এ যাবত কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁর ভূমিকা সচেতন ব্যাক্তিরা রহস্যজনক মনে করছেন।

আজ রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিবিচিনি, বেতাগী সদর ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের কয়েক খালে একধিক নিষিদ্ধ বেহুন্দি আর ভাসা জাল। আর এসব খালে নির্ভয়ে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে বসে আছেন শিকারিরা। অথচ বেহুন্দি আর ভাসা দুটোই নিষিদ্ধ জাল।

এসব খালে দিনদুপুরে নিষিদ্ধ জাল পেতে এমন মাছ শিকার করলেও দেখার যেন কেউ নেই এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক সচেতন ব্যাক্তি । এসব জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে দেশীয় প্রজাতির প্রায় সব মাছ বিলুপ্তির পথে।

উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা গেছে, পৌরসভাসহ ৭ টি ইউনিয়ন ও দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধ্যুষিত এ উপজেলায় ছোট-বড় ৪০ টি খাল, ৭টি বিল, প্লাবনভূমি ১৪ টি, ১১ হাজার ৬২৩ নটি পুকুর ও ১ টি নদী রয়েছে। এ থেকে বছরে ৩০৬০ মে.টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। জনপ্রতি দৈনিক মাছের চাহিদা ৬৫ গ্রাম সে হিসাবে এ উপজেলায় মোট জনসংখ্যার বাৎসরিক মাছের চাহিদা ২৮০০ মে.টন। চাহিদা মিটিয়ে বছরে উদ্বৃত্ত থাকে ২৬০ মে. টন।

বিবিচিনি ইউনিয়নের কারিকরপাড়া খাল, গড়িয়াবুনিয়া, নাপিতখালী, সিদ্ধান্ত, সদর ইউনিয়নের কবিরাজের খাল, বাসন্ডা, বেড়েরধন, লক্ষ্মীপুরা, হোসনাবাদের উত্তর কাটাখালী, ধনমানিক চত্রা, জলিসা খালসহ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন খাল আর বিলে ৩ শতাধিক নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার করে স্থানীয় জেলারা এভাবে মাছ শিকার করছে অবাধে।

শিকারিদের পাতা নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে বিলুপ্তি পথে চিংড়ি, কালিবাউশ, বাইলা, গুইল্লা, পুঁটি গুইল্লা, ইছা, বোয়াল, পাবদা, পুঁটি, শোল, টাকি, মাছ। এছাড়া এসব খালের বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে গতিরোধ করা হচ্ছে পানি প্রবাহের। এতে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে । তবে স্থানীয়রা জানায়, এসব দেখার বিষয় টনক নড়ছে না মৎস্য কর্মকর্তার। তারা জানান,স্থানীয় জেলেরা দেশীয় প্রজাতির ভালো মাছ ধরা পড়লে কর্মকর্তার বাসায় যাচ্ছে। আর জেলেদের লাভেরও কিছু অংশ কৌশলে নিয়ে নিচ্ছেন।

বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় এক যুবক। তিনি বলেন,সবাই ধরে কেউ কিছু বলে না। তাই আমিও ধরি। এই এলাকায় বেশিরভাগ ভাসা জাল, কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল দিয়েই মাছ ধরে। এসব জালে প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে।’

স্থানীয়রা বলছেন,আগে একসময় এসব খালে বড় বড় বোয়াল, শোল, টাকি, চিংড়ি, বাইন মাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশিয় মাছ ধরা পড়তো। এখন এসব মাছ তেমন ধরা পড়ে না। বাজারে খাচি ভরে এসব ছোট ছোট সাইজের দেশীয় মাছ বিক্রি হয়। ‘ দু বছর আগেও,’ মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসে খাল-বিল থেকে এসব অবৈধ জাল তুলে নিয়ে পুড়ে ফেলত। কিন্তু এখন আর এসব অবৈধ জাল কেউ নিষেধও করছে না। ‘

জানা গেছে,স্থানীয় বাজারেই নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে। পৌর শহরের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন,’ নিষিদ্ধ জাল পাতা বন্ধ করতে হলে দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেলেরা যাতে অবৈধভাবে দেশীয় মাছ না ধরে সে বিষয় তদারকি জোরদার করতে হবে।’

বিবিচিনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাড়ির বুলু সিকদার জানায়,যেভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতি মাছ ধরছে অথচ এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তার ভূমিকা রহস্যজনক।এছাড়া নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল পেতে মাছ ধরছে সেইসব সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক সচেতন ব্যাক্তি জানায়,যেভাবে বেহুন্দি জাল দিয়ে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরছে তাঁর লভ্যাংশের একটা অংশ মৎস্য কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে। এজন্য কর্মকর্তা কোন ভূমিকা নিচ্ছেন না। ‘

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন,কারেন্ট জাল,বেহুন্দি,ভাসা সবই নিষিদ্ধ। আমরা বেশ কিছু স্থান চিহ্নিত করেছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা দ্রুত সেসব স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, খাল,বিল ও মুক্ত জলাশয়ে বেহুন্দি জাল, ডুব জাল, টানা জাল, চর জাল, পেকুয়া জাল বসিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে । মৎস্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আমরা এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকাকিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD