বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী টাংগন ব্যারেজের গেট উত্তলন। Logo কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লেবুখালী ফেরিঘাট কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী শতাধিক ফেরিওয়ালা ও টং দোকানদার ব্যবসায়ীরা। Logo বরিশাল বানারীপাড়া থানায় পিতা ও পুত্রের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ। Logo রুহিয়া ইউপি নির্বাচনে আবারও মনিরুল হক বাবুকে নৌকার কান্ডারী দেখতে চায় ইউনিয়নবাসী । Logo বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম বেপারীর সংবাদ সম্মেলন। Logo বরিশাল নৌ-বন্দরে সুমনের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। Logo সময় টিভির পরিচয় দানকারী,বাকেরগন্জেে’র প্রতারক বিশ্বজিৎ কর্মকার আটক। Logo অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী তানিন সুবাহ। Logo চুরির অপবাদ দিয়ে কৃষকের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ। Logo আজ মধ্যরাত থেকে সমুদ্রে মাছ ধরবে জেলেরা।

ভিক্ষুক আয়শা’র শেষ ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘর।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ৩৭ বার পঠিত
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

রিপন রানা,বরিশাল ঃ-
ভিক্ষুক আয়শা বেগমের জীবন কষ্টেই কেটে গেলো। বাঁশের কয়েকটি খুঁটির উপর দাঁড় করানো ছোট্ট একটি ঝুঁপরি ঘর। পুরনো টিন আর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ঝুঁপরিটি। মানবেতর দিন কাটছে ভিক্ষুক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের ৮৩ বছর বয়সে।

প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি স্বামী হারিয়ে মেয়েকে নিয়েই মানবেতর জীবনযাপন করছে। নেই কোন থাকার ঠিকানা । পরের জমিতেই প্রায় ৩০ বছর ধরে ঝুঁপরির ছোট একটু ঘর করে বসবাস করছেন তারা। সংসার চালানোর মত কেউ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পরে মেয় মনোয়ারা বেগমকে বিয়ে দেওয়া হলেও ৭ বছর আগে তার স্বামীও মারা যান। এক কথায় বলা যায় মা-মেয় দুই জনইে বিধবা।তবে সংসার চালানোর জন্য এখন ভিক্ষা করেন মেয়ে মনোয়ারা। বরিশাল সদর উপজেলার ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড (হিরন নগর) সার গোডাউন এলাকায় একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমনই একটি দৃশ্য চোখে পড়লেন প্রতিবেদেকের ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিক্ষুক আয়েশা বেগম আগে ভিক্ষা করেই সংসার চালাতো। কিন্তু বয়সের ভারে তিনি এখন মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। অনেক কষ্টেই চলছে তাদের জীবন। স্থানীয়দের কাছে চেয়ে চিন্তে চলছে তাদের জীবন। নেই তাদের কোন থাকার ঠিকানা।স্থানীয়রা আরো বলেন, সবাই প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেলেও ভিক্ষুক আয়শায় কপালে জোটেনি একটি ঘর। তবে তাদের দাবি খুব দ্রুত আয়শা বেগমকে যেন একটি ঘর উপহার দেয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আয়শা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায় তার জীবনের কষ্টের ইতিহাস। তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যান। হতদরিদ্র স্বামী আয়েশা’র জন্য শুধুমাত্র বসত ভিটেটুকু ছাড়া অন্য কোনো সহায়-সম্পদ রেখে যাননি। তাও মেঘনা নদীতে ভেঙ্গে প্রায় ২৫ বছর আগে চলে যায়। আয়শা বেগম হিজলা এলাকার বাসিন্দা। পরে ছোট্ট মেয়ে সন্তান কোলে নিয়ে বরিশাল এসে লঞ্চঘাট এলাকায় বসবাস শুরু করেন ।স্বাধীনের সময় বসবাস স্থান থেকে উচ্ছেদ করে দেয় মিলিটারিরা। তারপর থেকে চরকাউয়া ইউনিয়নের পরিত্যক্ত পরের জমিতে বসবাস শুরু করেন বৃদ্ধ আয়েশা বেগম। প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাসের স্থান থেকে আজ উচ্ছেদ হওয়ার মুখে বৃদ্ধ আয়েশা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, স্বাধীনের পরে পরিত্যক্ত একটি সারের গোডাউনে জমিতে বসবাস করে আসছেন আয়েশা বেগম। তাও যুগ্ম জেলা জজ,-১ম আদালত বরিশাল অর্থজায়ী, মোকদ্দমা ন-০২/২০১৫/আদালতের রায়,নং ২৩৬৫, আলোকে এই সম্পত্তি ও তদস্থিত স্থাপনার মালিক ইসলামিয়া ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড বরিশাল শাখা পূর্ব বগুড়া রোড বরিশাল মালিক।পরে তাদের কাজ থেকে ক্রয় সুত্রে এই জমির মালিক বরিশাল কাউনিয়া বিসিক এলাকার ফরচুন সু কোম্পানি। এবিষয়ে ফরচুন সু কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এর ভাই শফিক এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে বলেন, এই জমি আমরা ইসলামিয়া ব্যাংকের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করেছি। আমাদের জমি থেকে সবাইকে চলে জেতে হবে। বৃদ্ধ আয়েশা কোনো কাজই এখন আর করতে পারেন না। তাই কোনো উপায় না দেখে বর্তমানে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবন চালাচ্ছেন। আয়েশা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পৃথিবীতে আমার কেউ নাই। ঘর নাই। খাবার নাই। আমাকে দেখার মতো কেউ নাই। তাই সরকার যেন একটি ঘর তৈরি করে দিয়ে শেষ জীবনের নিরাপত্তা দেয় সে জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ নিয়ে আয়েশা’র প্রতিবেশীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আয়েশা বেগম সত্যি চরম অসহায় ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যে ঝুপরি ঘরটিতে বাস করছেন। যে কোনো সময় ঝড়-তুফানে সে ঘরটিকে উড়ে যেতে পারে। এ অসহায় বৃদ্ধা কোনো সরকারি ত্রাণ বা ঘরের আওতায়ও আনা হোক। আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি তাকে দ্রুত নিরাপদভাবে থাকার মতো সরকারি একটি ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয় যেন।
এবিষয়ে ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক( সাগর)বলেন,আমি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমে তাঁকে কিছু অর্থ ও টিন দিয়ে ঘরের তুলে দিয়েছিলাম। আয়েশা বেগমকে বয়স্ক ভাতা,ও তার মেয়ে মনোয়ারা বেগমকে বিধবা ভাতার কার্ড দিয়েছি। এখন দেখি প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের ঘর দেয়ার জন্য চেষ্টা করবো। আপনারা আমাকে উৎসাহ দিয়েন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম (ছবি) বলেন, আয়েশা কোনোদিন আমার কাছে আসেন নি। তবে স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে তাকে সহায়তা করা হয়েছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD