সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo আসছে মজুমদার ফিল্মস’র এক সমুদ্র ভালোবাসা। Logo কুয়াকাটার মাদ্রাসার ছাত্রীকে উত্যক্ত করা, দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। Logo মহিপুরের ওসি’র মহানুভবতায় পথ হারানো শিশু সুমাইয়া আক্তার (০৭) খুঁজে পেল তার পরিবার। Logo কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসছেন সোহানুর রহমান সুমন Logo টোল পুনর্নির্ধারণ না করেই উদ্বোধন হলো পায়রা সেতু পায়রা সেতুতে ফেরির ৭ গুণ টোল পরিবহন ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। Logo বনশ্রী থেকে কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যানকে অস্ত্রসহ আটক। Logo বরিশালে নগরীর ভাটারখালের আলোচিত মামলার আসামী সুমন জেল হাজতে Logo মহাসড়কে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও শিশু নিহত। Logo এসএসসি ০২ ব্যাচ বাংলাদেশ গ্রুপের বর্ষপূর্তিতে বর্নাট্য আয়োজন। Logo ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’ মতবিনিময়।

শ্রাবণেও আশার ইলিশে নিরাশা, দুঃসময়ে উপকূলের জেলেরা

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ২৯ বার পঠিত
আপডেট সময় : সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ২:৫০ অপরাহ্ণ

রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি :: ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আছে, সঙ্গে আছে পূবালী বাতাস। কিন্তু দেখা নেই ইলিশের। গভীর সাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার পর জেলেরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, ভেবেছিলেন নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের দেখা মিলবে। কিন্তু ইলিশের ভরা মৌসুমেও উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না রূপালী ইলিশ। তবে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, শিগগিরই জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। জ্যৈষ্ঠ থেকে ভরা মৌসুম চলছে ইলিশের। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণেও আশানুরূপ দেখা মিলছে না। নিষেধাজ্ঞার পর গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হয়। কিন্তু নদ-নদী ও সাগরেও দেখা মিলছে না তেমন ইলিশের। সাগরে মোটামুটি ইলিশ পাওয়া গেলেও আগুনমুখা, দারছিড়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছের হাহাকার। অন্যদিকে শুক্রবার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে  ৩ নম্বর সংকেত দেখিয়ে মাছ ধরার নৌকা-ট্রলারগুলোকে পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।ফলে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রস্তুতি নিয়েও শুক্রবার থেকে সাগরে যাত্রা শুরু করতে পারেনি কোনো কোনো জেলে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার থেকে পুরোদমে জেলেরা সাগরে নামতে শুরু করেছেন।এদিকে দিনের বাজারে ভোজনরসিকদের চোখ ইলিশের ডালির দিকে। অন্য বছর এই সময়ে নদীর ঝাঁকা রূপালি ইলিশে ভরা থাকলেও এ বার ঠিক উল্টো। ইলিশের মৌসুমেও ইলিশ ধরতে না পারায় দুর্দিনে পড়েছেন জেলেরা। ভোজন রসিক বাঙালির মনটাও খারাপ। একই সঙ্গে হতাশ মাছের আড়তের মালিকরাও। সারা দিনে দুই এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আসলেও তেমন হইচই নেই রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ও কোড়ালিয়া মাছ ঘাট। সেই সঙ্গে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতেও ইলিশের সেই হাঁকডাক নেই।ফলে উপজেলার  ১৩ হাজার ৮৪৭ জন নিবন্ধিত জেলেসহ প্রায় ২০ হাজার জেলে হতাশায় রয়েছেন। একদিকে করোনা সংকট, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশ না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।কোড়ালিয়া মৎস্যজীবীদের মাছ শিকারের ঠিকানা বলতে আগুনমুখা, চরমোন্তাজের জেলেদের ঠিকানা বুড়াগৌরাঙ্গ। সারা বছরই কিছু-না-কিছু মাছ মেলে এই নদী থেকে। কিন্তু বর্ষাকালে ইলিশের দৌলতেই পুঁজির জোগানটা হয়। কোড়ালিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন ও মাহমুদ হাসান বলেন, টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। জেলেরা সাগরে গেছে। কিন্তু ভরা মৌসুমেও ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ এবার পাচ্ছে না।কোড়ালিয়া গ্রামের জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বছরের অন্য সময় মাছ ধরে কোনো ক্রমে সংসারটা চলে যায়। তখন কিছু টাকা ধার করতে হয়। আর ইলিশের মৌসুমে আয়ের সময়। কারণ ওই সময় ইলিশ ধরে মহাজন ঋণশোধ থেকে ঈদের সময় পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। এ বছর সেখানেই ঘাটতি পড়েছে। কী করে সংসার চালাবো বুঝে উঠতে পারছি না।উপজেলার চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে শাহবুদ্দিন ও জামাল মাঝি বলেন, এবারতো মাছ তেমন ভালো না, জাটকা গুরা (ছোট), আর জাইল্লারা আমাছা (বিভিন্ন প্রজাতি) পায় এইয়া দিয়া কোনোরহম চলে। বড় কোনো মাছ নাই। গেল বার এমন টাইমে বড় মাছ আছেলে। সিজনের গড়ে আর দুই মাস সময় আছে এরহম চললে তো জাইল্লা বাঁচবে না।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, মূলত চলতি বছরে খুব বিলম্বে বৃষ্টি হয়েছে যার ফলে ইলিশ মাছের তেমন দেখা মেলে না। বৃষ্টির পানি হইলেই মাছটা জাগে এখান বৃষ্টি হচ্ছে এখন দেখা মিলবে। বৃষ্টি যত বেশি হইবে মাছের তত দেখা মিলবে। তবে ভোলাসহ উপকূলীয় কিছু কিছু জায়গায় মোটামুটি দেখা যাচ্ছে। দেড়িতে হলেও মাছ হবে এমনটা আশা করা যায়। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশ মাছের মৌসুম পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই এই ভরা মৌসুমেও ইলিশ ধরা পড়ছে না।তার মতে, বিষয়টি চিন্তার হলেও এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জেলেদের জালে যে একদমই মাছ ধরা পড়ছে না তা কিন্তু নয়। ইলিশ ধরা পড়ছে তবে পরিমাণে কম। একই  সঙ্গে ছোট সাইজের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD