মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র’কে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নয়ঘন্টা।

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ১৬৭ বার পঠিত
আপডেট সময় : বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০২ অপরাহ্ণ

ইত্তিজা হাসান মনির,জেলা প্রতিনিধি বরগুনা।
বরগুনায় সদর উপজেলার ১ নং ওয়ার্ড চরকলোনী এলাকার শিশু সামিউল্লাহ সানী (১৩) কে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে থানায় নিয়ে আসেন বরগুনা থানার এসআই জাহিদুল কবির। মোটরসাইকেলের সামনে এসআই জাহিদুল কবির মাঝখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সামিউল্লা সানী পিছন থেকে একজন কনস্টেবল জোরে চেপে ধরে নিয়ে যায় বরগুনা থানায়। থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে বারবার বলা হয় তুই যে অন্যায় করেছো, তুই যে মালামাল নিয়েছ সব মালামাল আমার কাছে দিয়ে দে। তোরে কষ্ট দেওয়া হবে, হাজতে ঢোকানো হবে, অন্য একজনে বলেন সকালের মধ্যে যদি স্বীকার না পায় তাহলে ওকে রিমান্ডে নেয়া হবে। বরগুনা সদর থানার এসআই জাহিদুল কবির শিশু সানীকে থানায় নিয়ে সন্ধ্যে সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত থানার ভিতরে একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বলা হয় তুই যে মালামাল নিয়েছো তা আমার কাছে দিয়ে দে, যদি না দাও তাহলে তোকে হাজতে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। নিরাপরাধ শিশুটির জন্য ছিল না কোন বসার ব্যবস্থা এভাবেই ঘটেছে বরগুনা সদর থানার গত ১৮ ডিসেম্বর তারিখের একটি ঘটনা। তুই-তোকারি ব্যবহার করা হয়েছে, কোন শিশু সুলভ কোন আচরণ শিশুটির সাথে করা হয়নি। শিশুটির বসবাস স্থল এবং আশপাশের লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে শিশুটি বরগুনার গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। কোন ধরনের অন্যায়ের সাথে লিপ্ত নেই। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করছে, নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করছে। তার মধ্যে কোন চুরির আলামত কেহই দেখেনি। গত ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবেশী সম্পর্ক দাদা মোঃ রফিকুল ইসলাম (এডভোকেট ক্লার্ক) বরগুনা তার বাসায় একটি চুরির ঘটনা ঘটে কে বা কাহারা এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে তার কোন প্রমাণাদি রফিকুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের কাছে নেই শুধুমাত্র সন্দেহবশত ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সানীকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পুলিশ থানায় নিয়ে শিশুটির সাথে যে আচরণ করেছে সেটি হচ্ছে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। শিশুটির মামা মোহাম্মদ জসিম এস আই জাহিদুল কবিরের কাছে শিশুদের সাথে এরকম আচরণের কথা জিজ্ঞাসা করলে এসআই কবির বলেন তোকেও গারদে ঢুকিয়ে দিব। সাংবাদিক এ সব দেখছে বললে এসআই কবির বলেন বেনজির সাহেব সাংবাদিকদের বেশি পাওয়ার দিয়েছে এত পাওয়ার দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রতিবেশী দাদা রফিকের স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা চুরি হয় যে জানালার কথা রফিক বলে সে জানালা দিয়ে আদৌ সানীর মত একটি মানুষ ঢুকতে পারে না। সন্দেহবশত সানীকে বারবার বাসায় গিয়ে মানসিক নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগ করেছে, সামীর মা-বাবা কেও চাপ দিযচ্ছে। ১৫ ডিসেম্বর সকালে গিয়ে সামীকে অজু করিয়ে কোরআন শরীফ মাথায় তুলে দেয় রফিক এবং তার স্ত্রী আয়েশা বেগম কোরআন মাথায় নিয়ে সানী বলেছে আমি কোন টাকা পয়সা স্বর্ণালঙ্কার নেইনি। এই কথার উত্তরে রফিকের স্ত্রী আয়শা বেগম বলেন তুই কোরআনের কি বুঝ ? এভাবেই তিনদিন চলার পরে চতুর্থ দিন বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে সানীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসে বরগুনা থানার এস আই জাহিদুল কবির।
রাত দুইটায় সামিউল্লাহ সানীকে থানা থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জনাব শহিদুল ইসলাম খান বলেন সানী নির্দোষ,সানীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সানীর মা সালমা থানায় রয়েছে সে মায়ের সাথে বাসায় চলে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD