রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা দেশের বোঝা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। Logo বরিশালে সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, প্রতারক খলিল হাওলাদার’র ১ বছরের কারাদন্ড। Logo কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউপিতে জেলে ও ভিজিডি’র চাল বিতরণ। Logo ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম ফাতেমা জাতের ধান চাষ করে সাফল্য অর্জন রেজাউল করিমের। Logo বাকেরগঞ্জ উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন জমজমাট ফার্মেসী ব্যবসা /যেন দেখার কেউ নেই। Logo ৬ নং ভানোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার কান্ডারী হতে চান রফিকুল ইসলাম। Logo ঝালকাঠিতে ১০ টাকার চাল বিক্রিতে নানা অনিমের অভিযোগ। Logo ঝালকাঠির বার্জ ডিপো জনস্বার্থে স্থানান্তরের দাবী এলাকাবাসীর। Logo রাঙামাটির গুলশাখালী ইউনিয়ন বাসীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায় আব্দুল মালেক। Logo রায়পাশা- কড়াপুর ইউনিয়ন বাসীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায় আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু।

সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করতে কুয়াকাটার অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি

দৈনিক আলোকিত প্রভাত / ২২ বার পঠিত
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১, ৪:১৩ অপরাহ্ণ

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।
কুয়াকাটা সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে, পরিবেশ সুন্দর রাখতে এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে,কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কের পশ্চিম পাশে সমুদ্র চর দখল করে লোহার টং ঘর নির্মাণ করছে সাজেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। টং ঘরের নিচের ফাঁকা জায়গা সমুদ্রের বালু কেটে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বীরদর্পে। একদিকে সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে অপরদিকে টং ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। সমুদ্র আইন অনুযায়ী সমুদ্রের বালু চরে কোন প্রকার স্থাপণা নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও আদালতের দোহাই দিয়ে দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা মৌখিকভাবে সমুদ্রের বালু চরে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বললেও তা মানছেন না। সমুদ্রের সাদা বালুর চর দখল করে লোহার টং ঘর নির্মাণ কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, সমুদ্রের চরে মালিকানার দাবী নিয়ে টং ঘর নির্মাণে অন্য দখলদাররাও এতে উৎসাহিত হবে। দখল দূষণে সৈকত এলাকার পরিবেশ নোংরা ও ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধে পর্যটকরা নাকাল। এক সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এই সমুদ্র সৈকতটির সৌন্দর্যে বিমোহিত হতো পর্যটকরা। জিরো পয়েন্টে সৈকতে নামতেই এমন দখল দূষণ পর্যটকদের অস্বস্তিতে ফেলছে। এখন দখল দূষনে সৌন্দর্য নস্ট হওয়ায় কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটকরা। স্থানীয়রা বলেন সৈকতের এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এখন সময়ের দাবী।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রের চর দখল করে সরদার মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম গংরা।ভূমি কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের চরের ওই জমি তাদের দাবী করে কয়েক দফায় উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও সাজেদুল ইসলাম গংরা আদালতের স্বরনাপন্ন হলে আদালত উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে,নিষেধাজ্ঞাকৃত ওই জমিতে মালিক দাবীদার সাজেদুল আলম গংরা স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখল করতে পারবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। সরকার পক্ষ বাঁধা প্রদান করতে পারবেন না। আদালতের এমন নিষেধাজ্ঞার কারনে জেলা প্রশাসন এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পারছেন না। মালিকানার সঠিক কাগজপত্র না থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সমুদ্রের বালুচর দখল করে আবাসিক হোটেল, মার্কেট ও দখলকৃত বালুচর পর্যটন মৌসুমে হাত হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আঃ আজিজ জানান, সমুদ্রের চরে টং ঘর নির্মাণ কাজ মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার জন্য তিনি বলেছেন। মালিকানার কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জমা দিতে বললেও তারা তা জমা দেয়নি। সমুদ্রের বালুচর কেটে নেওয়ার বিষয়ে এ্যাসিল্যান্ডকে অবহিত করা হয়েছে। আঃ আজিজ আরো জানান, মামলার সরকারী উকিলের কাছ থেকে কাগজপত্র ও মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারনে তারা চাইলেই ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

সাগরের চর দখল করে টং ঘর নির্মাণ এবং বালু কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেদুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ ইং সালে তিনি কেএম শাহজালাল এর কাছ থেকে এই জমি কিনেছেন। তখন এই জমি পতিত ছিল।
ইয়াসের সময় তার আবাসিক হোটেল ও মার্কেট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেখানেই তিনি আয়রনের টং ঘর নির্মাণ করছেন। এই জমিতে তারা ঘর দরজা তুলে ভোগদখল করতে পারবেন। এতে সরকার পক্ষ বাধা দিতে পারবেন না। আদালতের এমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এই জমি এবং মামলার বিষয়ে কেএম শাহজালাল এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন সাজেদুল ইসলাম।

এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, টং ঘর নির্মাণ এবং বালু কাটা তহসিলদার পাঠিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। মালিকানার কাগজপত্র নিয়ে আসার কথা কিন্তু এখনও কাগজপত্র নিয়ে কেউ আসেনি। তবে নিষেধ করার পরও যদি নির্মাণ কাজ এবং বালু কাটা বন্ধ না করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD